সিলেট ১০:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিলেটে তৎপর বিআরটিএ : অতিরিক্ত ভাড়া নিলেই নেয়া হচ্ছে ব্যবস্থা সিলেটে বিআরটিএ মোবাইল কোর্টের অভিযানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করায় হানিফ পরিবহনকে জরিমানা সিলেটে ছিনতাইয়ের শিকার বিএনপি নেতা সিলেটে বাস ভাড়ার তালিকা না থাকায় দুই বাস কোম্পানীকে বিআরটিএ জরিমানা জনগণের অধিকার বলতে আমরা ভোটের অধিকারকে বুঝি: খন্দকার মোশাররফ মন যুগিয়ে চলতে সরকার নিজেদের অবস্থান দুর্বল করছে’ রাজধানীতে ধাওয়া দিয়ে ৫ ছিনতাইকারীকে ধরলেন ৩ ট্রাফিক সার্জেন্ট সংস্কারবিহীন নির্বাচন কোনো কাজে দেবে না: নাহিদ ইসলাম ইউক্রেনকে ৪-২ গোলে হারিয়ে স্বর্ণ জিতল বাংলাদেশ গাজা যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত, হামাসের ‘অবাস্তব’ দাবি প্রত্যাখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের

২০ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার

এক পৃষ্ঠায় ১ হাজার টাকার চার নোট, নিজেরাই করেন সরবরাহ

আজকের পাতা ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:০৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫ ৩ বার পড়া হয়েছে

২০ লাখ টাকার জাল নোট ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১৩ মার্চ রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও নারায়ণগঞ্জে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. সুমন (৩৮), সুলতানা (২৮) ও হানিফ গাজী (৪৮)।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বলছে, একটি এ-৪ সাইজের কাগজেই চারটি এক হাজার টাকার নোট তৈরি করত এই চক্র। এরপর নিজেরাই সরবরাহ করত বাজারে।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের হেফাজত থেকে ২০ লাখ টাকার জাল নোট, আংশিক প্রিন্ট করা ১০০০ টাকা মূল্যমানের ৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকার জাল নোট ও জাল নোট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. জসীম উদ্দীন।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য পাওয়া যায়, সাইনবোর্ড এলাকা হতে কতিপয় জাল টাকার ব্যবসায়ী বেড়িবাঁধ রাস্তা দিয়ে জাল টাকাসহ মাদবর বাজার ঘাটের দিকে যাচ্ছে।

এমন তথ্যের ভিত্তিতে মাদবর বাজারের বুড়িগঙ্গা গণপাঠাগার সমাজকল্যাণ সংস্থার সামনে বেড়িবাঁধে চেকপোস্ট পরিচালনা করে কামরাঙ্গীরচর থানার একটি টিম।

দুপুর দেড়টার দিকে অটোরিকশাযোগে জাল টাকার ব্যবসায়ীরা পোঁছলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে সুমন, সুলতানা ও হানিফ গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেহ তল্লাশি করে ১০০০ ও ৫০০ টাকা মূল্যমানের মোট চার লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।

ডিসি জসীম বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যায় আরেক অভিযানে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কদমতলীর গ্যাস লাইন নামক এলাকায় গ্রেপ্তারকৃত সুমনের ভাড়া বাসা থেকে ১০০০ ও ৫০০ টাকা মূল্যমানের ১৬ লাখ টাকার জাল নোট, এক পাশে প্রিন্ট করা ১০০০ টাকা মূল্যমানের ৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকার জাল নোট (আংশিক প্রিন্ট করা), একটি সিপিইউ, একটি মনিটর, একটি কালার প্রিন্টার, জাল নোট তৈরির ১০টি ডাইস, তিনটি আঠার কৌটা, জাল নোট তৈরিতে ব্যবহৃত দুটি ফয়েল পেপার রোল, কালার প্রিন্টারের পাঁচটি কালির কৌটা, একটি রাবার কাটার, কাগজ ছিদ্র করার দুটি ভাইস ও জাল নোট তৈরির কাজে ব্যবহৃত এক বস্তা সাদা কাগজ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডিসি লালবাগ বলেন, তারা অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের জাল নোট তৈরি করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রয় করত। তারা আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে বিপুল পরিমাণ জাল নোট তৈরি করে সেগুলো সরবরাহ করার জন্য হেফাজতে রেখেছিল মর্মে স্বীকার করেছে। ইতোমধ্যে আসন্ন ঈদকে ঘিরে ২০ লক্ষাধিক টাকার জাল নোট তারা বাজারে সরবরাহ করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে উল্লেখ করে ডিসি জসীম উদ্দীন বলেন, জাল টাকা কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়ে থাকে। এই অপরাধ জামিনযোগ্য নয়। গ্রেপ্তারকৃতদের গতকালই বিজ্ঞ আদালতে পাঠালে আদালত প্রত্যেকের দুই দিন করে পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, গ্রেপ্তারকৃত প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই জাল নোট তৈরি ও বিক্রয় করার অপরাধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। আমরা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে জানার চেষ্টা করব, এই চক্রের সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

২০ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার

এক পৃষ্ঠায় ১ হাজার টাকার চার নোট, নিজেরাই করেন সরবরাহ

আপডেট সময় : ০৩:০৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫

২০ লাখ টাকার জাল নোট ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১৩ মার্চ রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও নারায়ণগঞ্জে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. সুমন (৩৮), সুলতানা (২৮) ও হানিফ গাজী (৪৮)।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বলছে, একটি এ-৪ সাইজের কাগজেই চারটি এক হাজার টাকার নোট তৈরি করত এই চক্র। এরপর নিজেরাই সরবরাহ করত বাজারে।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের হেফাজত থেকে ২০ লাখ টাকার জাল নোট, আংশিক প্রিন্ট করা ১০০০ টাকা মূল্যমানের ৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকার জাল নোট ও জাল নোট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. জসীম উদ্দীন।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্য পাওয়া যায়, সাইনবোর্ড এলাকা হতে কতিপয় জাল টাকার ব্যবসায়ী বেড়িবাঁধ রাস্তা দিয়ে জাল টাকাসহ মাদবর বাজার ঘাটের দিকে যাচ্ছে।

এমন তথ্যের ভিত্তিতে মাদবর বাজারের বুড়িগঙ্গা গণপাঠাগার সমাজকল্যাণ সংস্থার সামনে বেড়িবাঁধে চেকপোস্ট পরিচালনা করে কামরাঙ্গীরচর থানার একটি টিম।

দুপুর দেড়টার দিকে অটোরিকশাযোগে জাল টাকার ব্যবসায়ীরা পোঁছলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে সুমন, সুলতানা ও হানিফ গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেহ তল্লাশি করে ১০০০ ও ৫০০ টাকা মূল্যমানের মোট চার লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।

ডিসি জসীম বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যায় আরেক অভিযানে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কদমতলীর গ্যাস লাইন নামক এলাকায় গ্রেপ্তারকৃত সুমনের ভাড়া বাসা থেকে ১০০০ ও ৫০০ টাকা মূল্যমানের ১৬ লাখ টাকার জাল নোট, এক পাশে প্রিন্ট করা ১০০০ টাকা মূল্যমানের ৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকার জাল নোট (আংশিক প্রিন্ট করা), একটি সিপিইউ, একটি মনিটর, একটি কালার প্রিন্টার, জাল নোট তৈরির ১০টি ডাইস, তিনটি আঠার কৌটা, জাল নোট তৈরিতে ব্যবহৃত দুটি ফয়েল পেপার রোল, কালার প্রিন্টারের পাঁচটি কালির কৌটা, একটি রাবার কাটার, কাগজ ছিদ্র করার দুটি ভাইস ও জাল নোট তৈরির কাজে ব্যবহৃত এক বস্তা সাদা কাগজ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডিসি লালবাগ বলেন, তারা অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের জাল নোট তৈরি করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রয় করত। তারা আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে বিপুল পরিমাণ জাল নোট তৈরি করে সেগুলো সরবরাহ করার জন্য হেফাজতে রেখেছিল মর্মে স্বীকার করেছে। ইতোমধ্যে আসন্ন ঈদকে ঘিরে ২০ লক্ষাধিক টাকার জাল নোট তারা বাজারে সরবরাহ করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে উল্লেখ করে ডিসি জসীম উদ্দীন বলেন, জাল টাকা কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়ে থাকে। এই অপরাধ জামিনযোগ্য নয়। গ্রেপ্তারকৃতদের গতকালই বিজ্ঞ আদালতে পাঠালে আদালত প্রত্যেকের দুই দিন করে পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, গ্রেপ্তারকৃত প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই জাল নোট তৈরি ও বিক্রয় করার অপরাধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। আমরা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে জানার চেষ্টা করব, এই চক্রের সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত।